April 19, 2026, 11:21 am

ফুলছড়িতে নদী ভাঙন থেকে রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ স্মারকলিপি প্রদান

সোহাগ মৃধা, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় নদী ভাঙন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বসতবাড়ি, আবাদি জমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকাবাসির উদ্যোগে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী না থাকায় উপ-প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানের কাছে গণস্বাক্ষরসহ একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উল্লেখিত দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম সেলিম পারভেজ, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) জেলা সভাপতি রেবতী বর্মন, এলাকাবাসি মাহাবুব হোসেন, বাবলু মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ উড়িয়া, কাটাদ্বারা নৌঘাট, বানিয়াপাড়া, আমতলীর ঘাট, রতনপুর এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার ৮টি মসজিদ, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, গুণভরি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কবরস্থান, ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এসব ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে বিশাল এলাকার জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদেরকে পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হবে। তাই বক্তারা দ্রুত নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এব্যাপারে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। আপাতত: স্থায়ী ব্যবস্থা না হলেও অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা